মিশিগান প্রবাসী বাঙালিদের কনস্যুলার অফিস স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবী এখন বাস্তবায়নের পথে। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক শহরের একটি হলে গত ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতে বাংলাদেশ দূতাবাস ওয়াশিংটন ডিসি’র আয়োজনে ‘টাউন হল মিটিং’ এ রাষ্ট্রদূত তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম এমনটাই ঘোষণা দিলেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই কনসুলেট চালুর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এই সম্মতি পাওয়ার পরই মিশিগানে কনস্যুলার অফিস স্থাপনের কাজ শুরু হবে।
সভা চলাকালীন সময়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি মনির হায়দার ভিডিও বার্তায় বলেন, বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে মিশিগানে কনসুলেট অফিস স্থাপনে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, এখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সম্মতি পাওয়ার পরই আপনাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়ে যাবে।
‘টাউন হল মিটিং’ এ উপস্থিত প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আগত রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। উক্ত সভায় মিশিগানের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ মিশিগানে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে বাংলাদেশের কনস্যুলেট অফিস খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে মিশিগান প্রবাসী হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হয়। মিশিগানে প্রায় ১ লক্ষ বাংলাদেশির বাস । প্রবাসীদের দীর্ঘ দিনের দাবী ছিল মিশিগানে একটি কনস্যুলার অফিস স্থাপনের। এ দাবী নিয়ে অতীতে অনেক চেষ্টা
হয়েছে কিন্তু বছরের পর বছর গেলেও এর কোন সুরাহা হয়নি। যার ফলে মানুষকে এই সেবা নিতে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ এম্বেসীতে যেতে হয়। যা ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ। অনেক সময় বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদেরকে নিয়েও যেতে হয় যা ভোগান্তির। তাই মিশিগান প্রবাসী বাঙালিদের দাবী এখন বাস্তবায়নের পথে।
অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে নেতারা যখন মিশিগান এসেছেন প্রবাসীরা তাদের কাছে কনস্যুলেট অফিস খোলার জন্য দাবী জানিয়েছেন, স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন, আমলাদের পেছনে সময় নষ্ট করেছেন কিন্তু এর কোন প্রাথমিক উদ্যোগটা পর্যন্ত নেয়া হয়নি। এবার এর একটা সুরাহা হওয়ায় মিশিগান প্রবাসীরা ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বর্তমান অন্তর্বতী সরকারকে।
পার্থ সারথী দেব 








