০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
মতামত

দীপু দাশের শরীর যে আগুনে পুড়েছে সেই আগুনের উত্তাপ কি আপনি উপলব্ধি করছেন

দীপু দাশের শরীর যে আগুনে পুড়েছে সেই আগুনের উত্তাপ কি আপনি উপলব্ধি করছেন? আগুনে পোড়া দগ্ধ দীপু দাশ মৃত্যুর আগ মূহূর্তে এ সমাজ, এ জাতি, এ রাষ্ট্র নিয়ে কি ভেবে ভেবে মৃত্যু বরণ করেছেন তা কি একবারের জন্য ভেবেছেন, যদি ভেবে থাকেন তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে আপনি কি আপনার দায়িত্ব বা ভূমিকা পালন করেছেন নাকি এটিও একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। যদি তাই করে থাকেন তবে দীপু দাশের শরীরের আগুনের লেলিহান শিখার উত্তাপ কিন্তু আপনার দিকে ধেয়ে আসছে। সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাশ নামক একজন কারখানা শ্রমিকের উপর যে বর্বরোচিত হামলা ও হামলার পর শত শত মানুষের সামনে পুড়িয়ে মারার যে বিভৎস ভিডিওটি আমরা দেখলাম তাতে আমার মনে হলো বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে স্নেহ, মায়া, মমতা, ভালবাসা, সহানুভূতি, আত্মবিশ্বাস, মানবতা, চেতনা, সহমর্মিতা, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্যতা, একতা, বিশ্বাস লোপ পেতে শুরু করেছে। শত শত মানুষের(?) মধ্যে কি

আগুনে জ্বলছে দীপু দাশ অন্যদিকে জংলীদের উল্লাস

একজনও মানুষ ছিল না যে বলতে পারে, দীপু দাশ যদি দোষী হয়েও থাকে তবে তাঁকে আইনের মানুষের কাছে তুলে দিন। বিচারের ভার নিজ হাতে তুলে নিবেন না। উপস্থিত অনেককে দেখলাম উল্লাসে মেতে ওঠেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা যায়, পাইওনিয়ার নীটওয়ার নামক ফ্যাক্টরীতে একজন শ্রমিক ছিলেন দীপু দাশ, ভাল কাজ করার জন্য কয়েকদিন আগে তাকে ইনচার্জ হিসাবে পদোন্নতি দেন কর্তৃপক্ষ, এতে তার কয়েকজন সহকর্মী ক্ষিপ্ত হন ও তাকে চাকরি ছাড়ার হুমকি দেন। যদি চাকরি না ছাড়েন তবে তাকে দেখে নেয়া হবে বলে হুমকি দেন। এই সহকর্মীরাই কারখানার ভিতরে গুজব ছড়ায় যে দীপু ধর্ম অবমাননা করেছে। গুজবের ভিত্তিতে কারখানার অভ্যন্তরে থাকা কিছু মানুষের উস্কানীতে স্থানীয় মৌলবাদীরা কারখানার সামনে জড়ো হলে পাইওনিয়ার নীটওয়ার ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর না করে দীপু দাশকে কারখানা থেকে বের করে মৌলবাদী জঙ্গীদের হাতে তুলে দেয় এরপর দীপু দাশকে পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলে। দীপুকে যে কারণে হত্যা করা হলো অর্থাৎ ধর্ম অবমাননা, সংবাদে প্রকাশ ধর্ম নিয়ে কোন কটুক্তির কোন প্রমাণ পায়নি আইন শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী। এই যে ‘ধর্ম অবমাননা’ এ নিয়ে অতীতেও  বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি

দীপু দাশকে চাকরি থেকে অব্যাহতি

ঘটনা ঘটেছে এবং উন্মত্ত জঙ্গীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে নিরাপরাধীকে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর স্বীকার হয়েছে নিরীহ প্রকৃতির হিন্দু লোকজন এবং প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে ধর্ম অবমাননা’র বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট। কিন্তু ক্ষতি যা হবার তাতো হয়েই গেল। উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে পরিবারটি হয়ে যায় নিঃসহ। শিশুরা হয়ে যায় পিতৃহারা, লেখাপড়া না করে ধরতে হয় সংসারের হাল। দীপুর বাবা বলছেন, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও, স্ত্রী নির্বাক, শুধু চোখের জল ফেলছেন, শিশুটি ফ্যাল ফ্যাল করিয়ে তাকিয়ে আছে সে জানে না তার বাবা কোথায়, সে জানে না তার ভবিতব্য, এখন এক অজানা,  অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে দিশেহারা নিঃস্ব, দরিদ্র, অসহায় এই পরিবারটি। দীপু রাজনীতি করতেন না, কোনো দলের কর্মী ছিলেন না, ফেসবুকার নন, ইউটিউবার নন, নেতা নন, সেলিব্রেটি নন তিনি ছিলেন খেটে খাওয়া এক জন সাধারণ মানুষ সুতরাং তার জন্য কোন শোকসভা হবে না, কেই মাইকে গলা ফাটিয়ে বক্তৃতা দিবে না, কোন সমাবেশ হবে না, মানববন্ধন হবে না, পত্রিকায় হেড লাইন হবে না, টিভিতে ব্রেকিং নিউজ হবে না, ফেসবুকে গল্পগাথা হবে না, ইউ টিউবে কারো কোন কনটেন্ট থাকবে না তাই চলুন দীপুর জন্য একটু শোক ও দুঃখ প্রকাশ করি। এইটুকুতো আমরা করতেই পারি তাই না।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দৃঢ় আদর্শের এক নাম: শ্রীমঙ্গলের গঙ্গেশ দেব রায়

মতামত

দীপু দাশের শরীর যে আগুনে পুড়েছে সেই আগুনের উত্তাপ কি আপনি উপলব্ধি করছেন

আপডেট টাইম : ১২:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

দীপু দাশের শরীর যে আগুনে পুড়েছে সেই আগুনের উত্তাপ কি আপনি উপলব্ধি করছেন? আগুনে পোড়া দগ্ধ দীপু দাশ মৃত্যুর আগ মূহূর্তে এ সমাজ, এ জাতি, এ রাষ্ট্র নিয়ে কি ভেবে ভেবে মৃত্যু বরণ করেছেন তা কি একবারের জন্য ভেবেছেন, যদি ভেবে থাকেন তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে আপনি কি আপনার দায়িত্ব বা ভূমিকা পালন করেছেন নাকি এটিও একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। যদি তাই করে থাকেন তবে দীপু দাশের শরীরের আগুনের লেলিহান শিখার উত্তাপ কিন্তু আপনার দিকে ধেয়ে আসছে। সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাশ নামক একজন কারখানা শ্রমিকের উপর যে বর্বরোচিত হামলা ও হামলার পর শত শত মানুষের সামনে পুড়িয়ে মারার যে বিভৎস ভিডিওটি আমরা দেখলাম তাতে আমার মনে হলো বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে স্নেহ, মায়া, মমতা, ভালবাসা, সহানুভূতি, আত্মবিশ্বাস, মানবতা, চেতনা, সহমর্মিতা, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্যতা, একতা, বিশ্বাস লোপ পেতে শুরু করেছে। শত শত মানুষের(?) মধ্যে কি

আগুনে জ্বলছে দীপু দাশ অন্যদিকে জংলীদের উল্লাস

একজনও মানুষ ছিল না যে বলতে পারে, দীপু দাশ যদি দোষী হয়েও থাকে তবে তাঁকে আইনের মানুষের কাছে তুলে দিন। বিচারের ভার নিজ হাতে তুলে নিবেন না। উপস্থিত অনেককে দেখলাম উল্লাসে মেতে ওঠেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা যায়, পাইওনিয়ার নীটওয়ার নামক ফ্যাক্টরীতে একজন শ্রমিক ছিলেন দীপু দাশ, ভাল কাজ করার জন্য কয়েকদিন আগে তাকে ইনচার্জ হিসাবে পদোন্নতি দেন কর্তৃপক্ষ, এতে তার কয়েকজন সহকর্মী ক্ষিপ্ত হন ও তাকে চাকরি ছাড়ার হুমকি দেন। যদি চাকরি না ছাড়েন তবে তাকে দেখে নেয়া হবে বলে হুমকি দেন। এই সহকর্মীরাই কারখানার ভিতরে গুজব ছড়ায় যে দীপু ধর্ম অবমাননা করেছে। গুজবের ভিত্তিতে কারখানার অভ্যন্তরে থাকা কিছু মানুষের উস্কানীতে স্থানীয় মৌলবাদীরা কারখানার সামনে জড়ো হলে পাইওনিয়ার নীটওয়ার ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর না করে দীপু দাশকে কারখানা থেকে বের করে মৌলবাদী জঙ্গীদের হাতে তুলে দেয় এরপর দীপু দাশকে পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলে। দীপুকে যে কারণে হত্যা করা হলো অর্থাৎ ধর্ম অবমাননা, সংবাদে প্রকাশ ধর্ম নিয়ে কোন কটুক্তির কোন প্রমাণ পায়নি আইন শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী। এই যে ‘ধর্ম অবমাননা’ এ নিয়ে অতীতেও  বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি

দীপু দাশকে চাকরি থেকে অব্যাহতি

ঘটনা ঘটেছে এবং উন্মত্ত জঙ্গীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে নিরাপরাধীকে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর স্বীকার হয়েছে নিরীহ প্রকৃতির হিন্দু লোকজন এবং প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে ধর্ম অবমাননা’র বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট। কিন্তু ক্ষতি যা হবার তাতো হয়েই গেল। উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে পরিবারটি হয়ে যায় নিঃসহ। শিশুরা হয়ে যায় পিতৃহারা, লেখাপড়া না করে ধরতে হয় সংসারের হাল। দীপুর বাবা বলছেন, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও, স্ত্রী নির্বাক, শুধু চোখের জল ফেলছেন, শিশুটি ফ্যাল ফ্যাল করিয়ে তাকিয়ে আছে সে জানে না তার বাবা কোথায়, সে জানে না তার ভবিতব্য, এখন এক অজানা,  অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে দিশেহারা নিঃস্ব, দরিদ্র, অসহায় এই পরিবারটি। দীপু রাজনীতি করতেন না, কোনো দলের কর্মী ছিলেন না, ফেসবুকার নন, ইউটিউবার নন, নেতা নন, সেলিব্রেটি নন তিনি ছিলেন খেটে খাওয়া এক জন সাধারণ মানুষ সুতরাং তার জন্য কোন শোকসভা হবে না, কেই মাইকে গলা ফাটিয়ে বক্তৃতা দিবে না, কোন সমাবেশ হবে না, মানববন্ধন হবে না, পত্রিকায় হেড লাইন হবে না, টিভিতে ব্রেকিং নিউজ হবে না, ফেসবুকে গল্পগাথা হবে না, ইউ টিউবে কারো কোন কনটেন্ট থাকবে না তাই চলুন দীপুর জন্য একটু শোক ও দুঃখ প্রকাশ করি। এইটুকুতো আমরা করতেই পারি তাই না।